৮ই ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ / ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ / ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৫ হিজরি / রাত ৪:৫৯

ইসলামি মূল্যবোধ জাগ্রত এবং সামাজিক দ্বায়বদ্ধতায় তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন

ইসলামি মূল্যবোধ জাগ্রত এবং সামাজিক দ্বায়বদ্ধতায় তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন — অতঃপর !

সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ
সাম্প্রতিক সময়ে শহর বন্দর ও গ্রাম গঞ্জের আনাচে কানাচের মসজিদ মাদ্রাসা সামাজিক সংগঠন এবং এলাকার যুবসমাজের বা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ব্যানারে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল বা ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠান। যুগযুগ ধরে চলে আসা ধর্মীয় এই অনুষ্ঠানটি এলাকার মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য আজ একটা স্বাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। এলাকার মানুষের মাঝে ইসলামি মূল্যবোধকে জাগ্রত করার পাশাপাশি তাদের ব্যাক্তি ও পারিবারিক জীবনে শিক্ষা স্বাস্থ্য সাংস্কৃতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে একটি উন্নত সভ্য জাতি গঠনের উদ্দেশ্য একশ্রেণির স্বচেতন কতিপয় ব্যাক্তি সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা মাথায় নিয়ে প্রতি বছর এধরণের তাফসিরুল কুরআন মাহফিল বা ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে থাকে। প্রতিবছর তাফসিরুল কুরআন মাহফিল বা ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে থাকে এমন বেশ কয়েকটি সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী হয়ে সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা মাথায় নিয়ে একটা ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করতে এসব কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রায় ১৫ দিন থেকে একমাস সময় লেগে যায়। কোন কোন অনুষ্ঠানের ডেকোরেটর সহ আনুষাঙ্গিক খরচ ৫০.০০০ হাহাজার থেকে একলক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওইসব আয়োজক কমিটির সদস্যগন বলেন, প্রতিটি ওয়াজ মাহফিলে ইসলামি এসব আলেম বক্তাগন বলে থাকেন আলেমগন হলো নবী করিম (সাঃ) এর ওয়ারেশ । সেই হিসাবে মানুষ কে ইসলামের তথা কালিমার দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে( তাদের উপর) আল্লাহর হুকুম রয়েছে। স্বচেতন ব্যাক্তিরা বলেছেন, দিন শেষে এইসব ওয়াজ মাহফিলের যারা আয়োজন করলো তাদের আয়োজনের শ্রম এবং উদ্দেশ্য হয়তো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা অবশ্যই কবুল করবেন কিন্তু যে সব আলেম বক্তাগন এইসব দাওয়াতী কাজের বিনিময়ে আয়োজক কমিটির নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নিলো অথবা যেসব আলেমগন এধরণের ইসলামি দাওয়াতি কাজ কে উপার্জনের মাধ্যমে হিসেবে বেছে নিয়েছেন দিন শেষে তাদের ঈমান ও আমলের মাপকাঠি কোথায় গিয়ে থামে। উদাহরণ হিসেবে একজন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ বলেছেন, যুগেযুগে নবী ও সাহাবীগন ইসলামের জন্য দাওয়াতি কাজ করতে গিয়ে নিজের অর্থ সম্পদ ব্যায় করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ।শুধু তাই নয়, ইসলামের জন্য দাওয়াতি কাজ করতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন, অথবা – বিভিন্ন ভাবে লাঞ্চিত অপমানিত হয়েছেন। তবুও তারা এই কাজ থেকে বিরত থাকেনি। আর আজ দেশের আনাচে কানাচে মানুষ ইসলামের কথা শোনানোর জন্য আলেমগনকে দাওয়াত দেয়, সমাদর করে এবং হাজার হাজার টাকা ব্যায় করে মঞ্চ তৈরি করে। অন্য দিকে আলেমদের মূখে কোরআন হাদিসের কথা, ইসলামের কথা শোনার জন্য হাজারও মানুষ জড়ো হয়। এমন দাওয়াত পেয়ে বেশির ভাগ আলেম, মুফতি, ফকিহগন দাওয়াত খেয়ে আগত মানুষের উদ্দেশ্য কুরআন হাদিসের কথা বুঝিয়ে দিন শেষে আবার বিভিন্ন অযুহাতে যাতায়াত খরচ সহ আনুষাঙ্গিক খরচ গ্রহণ করে থাকেন। সম্মানের খাতিরে আয়োজকগন হয় তাদের সামনে কিছু বলে না কিন্তু পরক্ষণে সমালোচনা তো হয়ে থাকে।খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, মুসলিম জনগোষ্ঠীর বর্তমান প্রজন্ম ইসলামের জন্য দাওয়াতি কাজের বিনিময়ে আর্থিক লেনদেন কে একপ্রকার বাঁকা চোঁখে দেখছে।