৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ / ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ / ২২শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি / রাত ১:৩৯

জলবায়ুর প্রভাব শহরমুখী মানুষ

বাংলাদেশ একটি শরঋতুর দেশ, বৈচিত্রে ভরা
এদেশের প্রতিটি জনপদ। কি পাহাড়ে-কি সমতলে,
একেক ঋতুতে একেক সাজে স্ব মহিমায় আবিবর্ত হয় প্রকৃতির

এম.এ খায়ের
তারিখঃ ১৪-১১-২০১৮

বাংলাদেশ একটি শরঋতুর দেশ, চিত্রে ভরা
এদেশের প্রতিটি জনপদ। কি পাহাড়ে-কি সমতলে,
একেক ঋতুতে একেক সাজে স্ব মহিমায় আবির্ভুত হয় প্রকৃতির
অপরুপ। শিতের সকালে শিশির ভেজা ধানের শিশ, কৃশান, কৃশানীর
মনে প্রানে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়।
বসন্তের মগ ঢালে কোকিলের কুহু কুহু তান মুগ্ধ করে দেয়
হাজারো নবীন, প্রবীনের দেহ-মন হৃদয়।
কিন্তু, জলবায়ুর প্রভাবে কখনো কখনো এ
দেশের মানুষের হাজারো আশা আকাংখা স্বপড়ব
পরিনত হয় দুঃস্বপেড়ব। ধুলায় মিশে যায়, অন্ধকারে
মিলিয়ে যায় বেঁচে থাকার সব ভবিষ্যত।
তিল তিল করে গড়ে ওঠা ছোট্ট সংসার
কত আদর স্বেহ মায়া মমতা দিয়ে ঘেরা স্বপড়ব
এ সবই বিলীন হয়ে যায় জলবায়ু প্রভাবের কারনে।
একটি মাত্র ঝড়, জলোচ্ছাস, টনেডো, সাইক্লোন বা
সিডর নামের ভয়ংকর আঘাতে। বিলীন হয়ে যায়
বিস্তির্ন জনপদ। শেষ হয়ে যায় বেঁচে থাকার সব অবলম্বন।
জলবায়ু প্রভাবের কারনেই ষাট এর দশকের শেষ দিকে
৬৯-এ নোয়াখালি, লক্ষিপুর ভোলার বিস্তির্ন অঞ্চল লন্ড-ভন্ড হয়ে গিয়েছিল।
হয়েছিল হাজারো মানুষের প্রাণহানী। ভেসে গিয়েছিল অগনীত লাশ
হাজার হাজার গবাদী পশু।
বিরান ভূমিতে পরিনত হয়েছিল সমস্ত উপকুল।
বেঁচে থাকার সব আশা আকাংখা সহায় স্বম্বল হারিয়ে যারা
কোন রকম টিকে ছিল তারাই এক সময় বেঁচে থাকার তাগিদে হইলো শহর মুখি।
একটু কাজ এতটুকু খাদ্যের আশায় একে বারেই নিরুপায় হয়ে তারা হল শহরের
বাসিন্দা। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল দেশেল ইতিহাসে ভয়াবহতম জলচ্ছাসে ধ্বংস
হয়েছিল চট্টগ্রামের পতেংগা সমুদ্র ক্সসকত সহ ঐ অঞ্চলে বিস্তির্ন জনপদ।
হাজার হাজার মানুষ ভেসে গেল ঐ জলচ্ছাসে। যার সঠিক হিসাব হয়ত
কোন দিনই পাওয়া যাবে না। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা বেঁচে ছিল
তারাই জীবন জীবিকার তাগিদে এক সময় হল শহর মুখি।
ইতিহাসের ভয়াবহাতম ৮৮’র বন্যা। আসলো সিডর, আইলা, আরো কত নামে
আঘাত করেছে সমস্ত উপকুল। ধ্বংশ হয়েছে, বিরান ভূমিতে পরিনত হয়েছে বিস্তির্ন
জনপদ। ১৫ই নভেম্বর ২০০৭, সিডরের ক্ষিপ্রতা ভয়াবহতা ধ্বংশ লীলা এতটাই
নিষ্ঠুর ছিল যে তা দেখে কোন এক অখ্যাত কবি বলেছিল,
এলো ঐ ধ্বংশ লীল, করতে বিনাশ ক্ষেতের ফসল মাছের পোনাবাংলাদেশ একটি শ^রঋতুর দেশ, ক্সবচিত্রে ভরা
এদেশের প্রতিটি জনপদ। কি পাহাড়ে-কি সমতলে,
একেক ঋতুতে একেক সাজে স্ব মহিমায় আবির্ভুত হয় প্রকৃতির
অপরুপ। শিতের সকালে শিশির ভেজা ধানের শিশ, কৃশান, কৃশানীর
মনে প্রানে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়।
বসন্তের মগ ঢালে কোকিলের কুহু কুহু তান মুগ্ধ করে দেয়
হাজারো নবীন, প্রবীনের দেহ-মন হৃদয়।
কিন্তু, জলবায়ুর প্রভাবে কখনো কখনো এ
দেশের মানুষের হাজারো আশা আকাংখা স্বপড়ব
পরিনত হয় দুঃস্বপেড়ব। ধুলায় মিশে যায়, অন্ধকারে
মিলিয়ে যায় বেঁচে থাকার সব ভবিষ্যত।
তিল তিল করে গড়ে ওঠা ছোট্ট সংসার
কত আদর স্বেহ মায়া মমতা দিয়ে ঘেরা স্বপড়ব
এ সবই বিলীন হয়ে যায় জলবায়ু প্রভাবের কারনে।
একটি মাত্র ঝড়, জলোচ্ছাস, টনেডো, সাইক্লোন বা
সিডর নামের ভয়ংকর আঘাতে। বিলীন হয়ে যায়
বিস্তির্ন জনপদ। শেষ হয়ে যায় বেঁচে থাকার সব অবলম্বন।
জলবায়ু প্রভাবের কারনেই ষাট এর দশকের শেষ দিকে
৬৯-এ নোয়াখালি, লক্ষিপুর ভোলার বিস্তির্ন অঞ্চল লন্ড-ভন্ড হয়ে গিয়েছিল।
হয়েছিল হাজারো মানুষের প্রাণহানী। ভেসে গিয়েছিল অগনীত লাশ
হাজার হাজার গবাদী পশু।
বিরান ভূমিতে পরিনত হয়েছিল সমস্ত উপকুল।
বেঁচে থাকার সব আশা আকাংখা সহায় স্বম্বল হারিয়ে যারা
কোন রকম টিকে ছিল তারাই এক সময় বেঁচে থাকার তাগিদে হইলো শহর মুখি।
একটু কাজ এতটুকু খাদ্যের আশায় একে বারেই নিরুপায় হয়ে তারা হল শহরের
বাসিন্দা। ১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল দেশেল ইতিহাসে ভয়াবহতম জলচ্ছাসে ধ্বংস
হয়েছিল চট্টগ্রামের পতেংগা সমুদ্র ক্সসকত সহ ঐ অঞ্চলে বিস্তির্ন জনপদ।
হাজার হাজার মানুষ ভেসে গেল ঐ জলচ্ছাসে। যার সঠিক হিসাব হয়ত
কোন দিনই পাওয়া যাবে না। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা বেঁচে ছিল
তারাই জীবন জীবিকার তাগিদে এক সময় হল শহর মুখি।
ইতিহাসের ভয়াবহাতম ৮৮’র বন্যা। আসলো সিডর, আইলা, আরো কত নামে
আঘাত করেছে সমস্ত উপকুল। ধ্বংশ হয়েছে, বিরান ভূমিতে পরিনত হয়েছে বিস্তির্ন
জনপদ। ১৫ই নভেম্বর ২০০৭, সিডরের ক্ষিপ্রতা ভয়াবহতা ধ্বংশ লীলা এতটাই
নিষ্ঠুর ছিল যে তা দেখে কোন এক অখ্যাত কবি বলেছিল,
এলো ঐ ধ্বংশ লীল, করতে বিনাশ ক্ষেতের ফসল মাছের পোনা


নিলো মোর সবই কেঁড়ে, যা কিছু সব উঠতো বেড়ে
স্বপড়বগুলো গুড়িয়ে দিতে সিডর দিল হানা।
সত্যি জলবায়ু প্রভাবের কারনে ঐ সিডরের নামে
কত মানুষের স্বপড়ব আশা আকাংখা চুর্ণ-বিচুর্ণ হলো
কে দিবে তার হিসাব? যাদের বেঁচে থাকার এক মাত্র অবলম্বন ছিল সংসারে দুটি গরু,
কয়টা হাঁস, মুরগি, কিবা একটা ছাগল, সিডর নামের প্রলয় এসে কেড়ে নিল সব।
অন্য নেই, বস্ত্র নেই, নেই বেঁচে থাকার মত কোন অবলম্বন। চোখে মুখে
ভবিষ্যত অন্ধকার দেখে এ মানুষ গুলোই হচ্ছে শহর মুখি।
জলবায়ুর পরিবর্তন বা প্রভাবের কারনে এভাবেই বেড়ে
চলেছে শহরের জনসংখ্যা। কিন্তু ঐ হারে মোটেই বাড়েনী
কর্ম পরিবেশ, বাড়েনী আবাসন ব্যবস্থা। জলবায়ুর প্রভাবে নদী ভাংগনের
কড়াল গ্রাসে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে গ্রামীন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ
হাট বাজার সহ সরকারী-বে সরকারী কতশত প্রতিষ্ঠান। বিলীন হয়ে যাচ্ছে
আবাদী জমি, ঘর-বাড়ী। নদী ভাংগনের কড়াল গ্রাসে ঘর-বাড়ী সব হারিয়ে মানুষ
যখন পাগল প্রায় তখন শুধু বেঁচে থাকার মানষে হন্য হয়ে ছুটছে শহরের দিকে
এক সময় হয়ে যায় শহরের বাসিন্দা। উনড়বত বিশে^র মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড
নিঃস্বরনের ফলে আমাদের মত গরীব রাষ্ট্রের দরিদ্র মানুষগুলো আμান্ত হচ্ছে
প্রতিনিয়ত, যা অনায়াসে মেনে নেয়ার নয়। আমরা দাবী জানাতে চাই উনড়বত বিশে^র
দাবীদার দের কাছে। অবিলম্বে বন্ধ করুন মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃ শ^রণ এবং
তা করতে হবে তাবত বিশে^র পরিবেশ এবং একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্মল পরিবেশে বিশ^কে বাঁচিয়ে
রাখার প্রয়োজনেই। পাশা পাশি দেশের সব মানুষ কে এটা বুঝতে হবে বা বুঝাতে হবে
ইস্পাত কঠিন ভাবে সবুজের বেষ্টনী ক্সতরী করতে হবে। সবুজ বেষ্টনী ক্সতরী হবে-৫৬
হাজার বর্গ মাইলের প্রতিটি ইঞ্চিতে। আর এ ভাবেই হয়ত কিছুটা হলেও সম্ভব হবে
জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার। জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব বা ক্ষতিকর দিক থেকে
যখন কৃষি, কৃষি সম্পদ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা পাবে তখন সাধারণ মানুষের শহর মুখি
হওয়ার প্রবনতা কিঞ্চিত হলেও কমে আসবে। শহর রক্ষা পাবে অনাকাংখিত
অতিরিক্ত মানুষের চাপ থেকে। এক্ষেত্রে সরকারকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।
গ্রামীন জন গোষ্ঠীর জন্য বছরের পুরোটাই কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। বেশী বেশী
সাইক্লোন সেন্টার বা আপদ কালীন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
সর্বপরি গ্রামীন অর্থনীতি ও গ্রামীন কর্ম পরিবেশকে প্রাধান্য দিলে সাধারণ মানুষের
শহর মুখি হওয়ার প্রবনতা বহুলাংশে কমে আসবে, এ প্রত্যাশা থাকলো
সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি।
এম.এ খায়ের
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ হকার শ্রমজীবী পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি