২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ / ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি / রাত ৪:৫৭

বিএনপির মদতেই চলছে জঙ্গিবাদের নেটওয়ার্ক: কাদের 

বিএনপির মদতে দেশে জঙ্গিবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক চলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

‘ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বকে দেখাতে সরকার দেশে জঙ্গি নাটক করছে’, বলে বিএনপি মির্জা ফখরুলের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নিয়ে যে মিথ্যাচার করেছে তা দেখে দেশের বিবেকবান মানুষ লজ্জা পেয়েছে! এই বক্তব্য দেশবাসীর সাথে বিএনপির চরম উপহাস ছাড়া আর কিছু নয়। তাদের কাছে জঙ্গি দমনের প্রচেষ্টাকে নাটক মনে হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ বিএনপির মদতেই পরিচালিত হচ্ছে জঙ্গিবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক।’ 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির সহায়তা, প্রত্যক্ষ মদত ও পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ভয়াবহ উত্থান ঘটে। বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য। কুখ্যাত জঙ্গি নেতা শায়েখ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ভাইয়ের ভয়াবহ তাণ্ডবে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল গোটা বাংলাদেশ। তখন বিএনপি নেতারা বলেছিল বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি। অথচ পরবর্তীতে দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও প্রমাণিত হয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং তৎকালীন প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি এবং জঙ্গি সংগঠনসমূহের বিকাশ ঘটেছিল। জঙ্গি নেতাদের সাথে বিএনপির তৎকালীন মন্ত্রী, এমপিদের প্রকাশ্য বৈঠকের ছবি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও জঙ্গিবাদের বীষবৃক্ষ রোপন করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জিয়াউর রহমান। বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়। জিয়াউর রহমান উগ্র-সাম্প্রদায়িক রাজনীতির যে চারা রোপন করেছিল, তার পত্নী খালেদা জিয়ার শাসনামলে তা ব্যাপক বিস্তৃতির মধ্য দিয়ে এক মহীরুহে পরিণত হয়।’ 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বিএনপি শাসনামলে ১৯৯২ সালের ৩০ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করে। এই অপশক্তি যশোরের উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা, খুলনার আহমদিয়া মসজিদে বোমা হামলা, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার জনসভাস্থলের কাছে ও হেলিপ্যাডে বোমা পুঁতে রাখা, রমনার বটমূলে হামলা, গোপালগঞ্জের বানিয়ারচরে গির্জায় হামলা ও নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলাসহ একাধিক জঙ্গি হামলা চালিয়েছিল।’

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শৈখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান, দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় নারকীয় গ্রেনেড হামলা। গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি মুফতি হান্নানসহ একাধিক জঙ্গি নেতার আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় তারেক রহমানই ছিল এই গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড। এ ঘটনায় নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ নেতা-কর্মী নিহত হন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারক ও বাহক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক আদর্শের ভিত্তিতে স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগঠিত হয়েছে এবং উদার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল। স্বাধীনতাবিরোধী এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দ্বারা আওয়ামী লীগ বার বার আক্রান্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী এই উগ্র-সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় নিহত হয়েছে। ঠিক সে সময়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জঙ্গিগোষ্ঠীকে উষ্কানি দিচ্ছে বিএনপি। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে।’