২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ / ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / ২১শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি / সকাল ৯:০৮

লেখক আর পাঠকের অপার বন্ধুত্ব হোক ‘একুশে’র ভোর…

বইমেলার দিনলিপি

গতকাল ১৯ তম দিন শেষ হলো। নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : হাসান আজিজুল হক শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোজাফ্ফর হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ফারুক মঈনউদ্দীন এবং মহীবুল আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।
প্রাবন্ধিক বলেন, হাসান আজিজুল হক আখ্যানপ্রধান কথাসাহিত্যিক। বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গল্পের ধারাকে তিনি আরও সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারিত করেছেন। এই বঙ্গে গণমানুষ ও প্রান্তিক মানুষ, দাঙ্গা, খরা, দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধা, মুক্তিযুদ্ধ, রাঢ়বঙ্গের প্রকৃতি এসবই তাঁর ছোটোগল্পে চিত্রিত হয়েছে। গল্প-উপন্যাসের বাইরে সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, রাজনীতি, দর্শন ইত্যাদি বিষয়ে তিনি অনেক মননশীল প্রবন্ধ রচনা করেছেন। এছাড়া, স্বল্প পরিসরে হলেও শিশুসাহিত্য ও অনুবাদের ক্ষেত্রে হাসান আজিজুল হক তাঁর স্বভাবজাত সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলা ছোটোগল্পের অন্যতম প্রধান লেখক হাসান আজিজুল হক তাঁর রচনায় রাঢ়বঙ্গের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। মানুষের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ ঘেরা ছিল বাস্তবতার কঠিন আবরণে। তাঁর একাধিক গল্পে শিশুকিশোর চরিত্রের সন্নিবেশ ঘটেছে, যেখানে তাদের মনোজগৎকে নানা মাত্রিকতায় আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন তিনি। তাঁর স্মৃতিকথায় কৈশোরের অনেক চিত্র যেমন প্রকাশিত হয়েছে, তেমনি লেখকের আত্মসত্তা আবিষ্কারের প্রয়াস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, বাংলা সাহিত্যের ছোটোগল্পের বরপুত্র হাসান আজিজুল হক গল্প-উপন্যাস ছাড়াও গভীর পর্যালোচনা ও প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর সাহিত্যের অনালোচিত দিকগুলোর ওপর আলোকপাত করার মাধ্যমে আমরা নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে পারব।
“লেখক বলছি” অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক অসীম হিমেল, কবি গাজী রফিক, রম্যলেখক সত্যজিৎ বিশ্বাস এবং গবেষক জিয়াউল হক। এবং প্রথম রিকশাচিত্র প্রদর্শন বই সংলাপ মঞ্চের আয়োজন হয়। এই মঞ্চে বিকেলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার সদ্যপ্রকাশিত কবিতা সংকলন মুজিবমনঞ্জষা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বইয়ের প্রকাশক আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি-সহ বিশিষ্টজন। আর নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, দুলাল সরকার, মাসুদ আলম বাবুল, কাজী আনারকলি, বাপ্পী রহমান এবং নাজমুল হুসাইন বিদ্যুৎ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আনজুমান আরা, বদরুল হুদা জেনু, মাহমুদুল হাকিম তানভীর, আওরঙ্গজেব আরু এবং রূপশ্রী চক্রবর্তী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল শিল্পী ফরিদা পারভীনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অচিন পাখি’, রাখাল কিশোর ঠাকুরের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ত্রিবেণী’ এবং আতিকুর রহমান উজ্জ্বলের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘নৃত্যাঙ্গন’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন আবিদা রহমান সেতু, সুমা রাণী রায়, ডালিয়া সুলতানা, আরিফ চৌধুরী পলাশ, মুন্নী কাদের, রোমানা আক্তার, জোহুরা আক্তার সোনিয়া এবং মো. রেজাউল করিম। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন চন্দন দত্ত (তবলা), আনোয়ার সাহদাত রবিন (কী-বোর্ড), এফ এম আলমগীর কবীর (বাঁশী) এবং দীপঙ্কর রায় (অক্টোপ্যাড)। আজ ৭ই ফাল্গুন ১৪৩০/২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ মঙ্গলবার। অমর একুশে বইমেলার ২০তম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩ টায় এবং চলবে রাত ৯ টা পর্যন্ত। বিকেল ৪ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : জামাল নজরুল ইসলাম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন আসিফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সুব্রত বড়ুয়া এবং আরশাদ মোমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান।
আগামীকাল শহিদ দিবস। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সকাল থেকেই বইমেলা পাঠকের অপেক্ষায় থাকবে। কাল সকালে বাংলা একাডেমির নিজস্ব অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সব প্রকাশকই কম বেশি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবে। ব্যতিক্রমী একটি প্রকাশনা উৎসব আছে শব্দশিল্প’র ৮৯,৯০,৯১ নম্বর স্টলে। অমর একুশে,বুবধবার সকাল ১১ টায়। প্রকাশক ম.শরিফুর রহমান কবিতার সম্প্রসারণে একঝাঁক নারীর মনকথার সংকলিত কবিতার বই “কণ্ঠলতা” ও ২০ জন প্রতিথযষা সাহিত্যিকের ২০ টি স্মৃতিচারণমূলক গল্পের সম্ভার “স্বপ্নমেঘ” বইটির প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করেছেন। এই উৎসবের খুশির বিষয়টি হলো দুটি বইয়ের প্রত্যেকটি মানুষই একে অপরের আপন মানুষ। বন্ধস্বজন। একে অপরের প্রিয় বন্ধু সবাই। বন্ধুত্বের জয় হোক। এভাবেই এগিয়ে যাবে মৌলিক সাহিত্যের প্রতি পাঠকের অপার বন্ধুত্ব …

মারুফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি

তথ্যসেবাঃ সমীর কুমার সরকার,
পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ, বাংলা একাডেমি।