২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ / ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / ২১শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি / সকাল ৭:১২

শহীদ মুনীর চৌধুরীসাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল মানুষ

বইমেলার দিনলিপি


গতকাল ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩০/২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ বুধবার। অমর একুশে বইমেলার ২৮তম দিন। আজকের পর, আর আছে মাত্র নতুন বর্ধিত দুইদিন। দু‘দিন পেরুলেই এ বছরের মতো ফেব্রুয়ারির বইমেলার পর্দা মোড়ানো হবে। আবার বেঁচে থাকলে দেখা হবে বইমেলায়। ২০২৫ সালের। ভাষার মাসে। আবেগে আসলেই মনটা সবার বিগলিত। গতকাল মেলা শুরু হয় বিকেল ৩:০০টায় এবং চলে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। আজ নতুন বই এসেছে ৮০টি। বিকেল ৪:০০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : মুনীর চৌধুরী এবং স্মরণ : হুমায়ুন আজাদ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে অধ্যাপক ফিরোজা ইয়াসমীন এবং অধ্যাপক হাকিম আরিফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম, অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক, ওসমান গনি এবং মৌলি আজাদ। সভাপতিত্ব করেন নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কাজী জাহিদুল হক সংকলিত এবং ঐতিহ্য প্রকাশিত মুনীর চৌধুরীর দুষ্প্রাপ্য রচনা বই-উন্মোচনে অংশ নেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ফেরদৌসী মজুমদার, প্রাবন্ধিকদ্বয়, আলোচকবৃন্দ, বিশিষ্ট নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার এবং গ্রন্থটির সম্পাদক কাজী জাহিদুল হক।
প্রাবন্ধিকদ্বয় বলেন, মুনীর চৌধুরী বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল নাম। তিনি স্বল্প সময়ের জীবনে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্বীয় নাম স্মরণীয় করে গেছেন। তিনি আজীবন সততা ও সাহসের সঙ্গে বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য ও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে, হুমায়ুন আজাদের অন্যতম বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয় হচ্ছে, তিনি একাডেমিক জগতে ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ে আধুনিক ও প্রাগ্রসর ধারণা ও তত্ত্চিব্ন্তাযর সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। পেশাগত জীবনে বাংলা ও ভাষাবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক হওয়ার কারণে ভাষাবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক বিশ্বে তাঁর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে পরম পাণ্ডিত্য ও অভিনিবেশ সহযোগে।
আলোচকবৃন্দ বলেন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মুনীর চৌধুরী শোষিত ও মুক্তিকামী মানুষদের জন্য সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। আমাদের সামনে তিনি বিপ্লবী জীবনের আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। বাংলা ভাষা চর্চা ও গবেষণার আধুনিকায়নে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। অন্যদিকে, বাংলা ভাষার অন্যতম গবেষক হুমায়ুন আজাদ সৃষ্টিশীল ও সাহসী একজন মানুষ ছিলেন। সৃষ্টিশীল লেখক হিসেবে কবিতা, উপন্যাস, শিশুতোষ রচনা, প্রবচন, আত্মজীবনী সবক্ষেত্রেই তাঁর ছিল অবাধ বিচরণ।
সভাপতির বক্তব্যে ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি মুনীর চৌধুরী ও হুমায়ুন আজাদের ভালোবাসা ছিল সহজাত ও স্বতঃস্ফূর্ত। তাঁদের জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।
আজ লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক, ড. মোহাম্মদ হাননান, কবি তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যিক সমীর আহমেদ এবং শিশুসাহিত্যিক আবেদীন জনি। বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চের আয়োজন : এই মঞ্চে আজ বিকেল ৫:০০টায় বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘সংস্কৃতি ও সদাচার’ বই নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. মো. হাসান কবীর এবং সম্পাদকীয় পর্ষদের সদস্যবৃন্দ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি প্রদীপ মিত্র, তাহমিনা কোরাইশী, চঞ্চল শাহরিয়ার, হাসান মাহমুদ, আসাদ আহমেদ, মীর রেজাউল কবীর, লোকমান হোসেন পলা, কাজী বর্ণাঢ্য, দীপন দেবনাথ, গোলাম মোর্শেদ চন্দন, কৌমুদী নার্গিস, ফারজানা ইসলাম এবং বোরহান মাসুদ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী জ্যোতি ভট্টাচার্য, মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, মছরুর হোসেন, ফারজানা নিন্মি এবং সিদ্দিকুর রহমান পারভেজ। এছাড়া ছিল কোহিনূর রহমান শিল্পীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দ নিকেতন সংগীতালয়’, নারায়ণ চন্দ্র শীলের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘লোকাঙ্গন সাংস্কৃতিক সংগঠন’, আরিফুজ্জামান চয়নের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘উদ্ভাস নৃত্যকলা একাডেমী’ এবং রোকেয়া ইসলামের পরিচালনায় ‘প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন সংস্থা’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শাহীন সামাদ, ফেরদৌস আরা, দীপ্তি রাজবংশী, আবদুল মান্নান তালুকদার (নয়ন সাধু), আঁখি আলম, শেখ মিলন, সরদার হিরক রাজা, আরিফ বাউল, বেবী আকতার, রবিউল হক, রিদওয়ানা আফরীন, রীতা ভাঁদুরী এবং নয়ন বাউল। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন কাজী মো. ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), মো. নূর এ আলম সজীব (কী-বোর্ড), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি), রিচার্ড কিশোর (গীটার), নজরুল ইসলাম (বাংলা ঢোল)। আজ ১৬ই ফাল্গুন ১৪৩০/২৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ বৃহস্পতিবার। অমর একুশে বইমেলার ২৯তম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩:০০টায় এবং চলবে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত।

মারুফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি
তথ্যসেবা: সমীর কুমার সরকার
পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ বিভাগ
বাংলা একাডেমি।
ছবি: সৌজন্যে-(মোস্তফা মনন)