২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ / ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / ২১শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি / সকাল ৭:৫৫

সংলাপের কথা বলে জনদৃষ্টি ‘ডাইভার্ট’ করতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল

সংলাপের কথা বলে জনদৃষ্টিকে সরকার ভিন্নদিকে ডাইভার্ট করতে চায় বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমুর সংলাপ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ডাইভারশন খুব ভালো পারে। তারা একটি ইস্যু আরেকদিকে নিতে বেশ পটু। সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগের তিন নেতা তিনরকম কথা বললেন। আসলে আমরা যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাব না সেটা এবং বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এসব করছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র সংকট: উত্তরণ প্রয়াসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সবায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এ সভার আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘লড়াই করছি দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে। দেশের মানুষ সংগ্রাম করে দাবি আদায় করতে জানে। নির্বাচন হবে নিশ্চয়। কিন্তু সেটি যেন নিদর্লীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হয় সেই দাবি আদায় করতে হবে। দরকার হলে রাজপথে নামতে হবে।’

5

ফখরুল বলেন, বিদ্যুতের জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করছে, এখন কেন এ অবস্থা? সব ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়েছে। টাকাগুলো গেলো কোথায়? অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের টাকা নেই, ডলারও নেই। এজন্য মহাসংকট তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, মানুষ যা চায়, আওয়ামী লীগ তার উল্টো কাজ করে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্র যায় না। ভাষা প্রকাশ, মতপ্রকাশে তারা উগ্র। তারা নিজেরা নিজেরা লড়াই করেন, তাদের কোনো কিছুই গণতান্ত্রিক না। বিএনপি এ ধ্বংসাত্মক মতবাদে বিশ্বাসী না। সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকায় আজকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০১১ সালে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে। তখন বেগম খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে করে বলেছিলেন, ‘আজকে এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে চিরস্থায়ী সংকট, সংঘাত শুরু হলো।’ সেটাই হয়েছে এবং চলছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম ঠিকমত স্বাধীনভাবে লিখতে ও বলতে পারেন না। কারণ ফ্যাসিবাদ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ইতোমধ্যে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। জাতিসংঘসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সেলিম, অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল ও খান মো. মনোয়ারুল ইসলাম শিমুল।

অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন— বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের কাদের গণি চৌধুরী, ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক সাজেদুল করিম, অধ্যাপক মতিনুর রহমান, অধ্যাপক আখতার হোসেন, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক-পেশাজীবী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।