২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ / ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / ২১শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি / সকাল ৮:৪০

স্বপ্নের ট্রিলজিক্যাল ইশারা “স্বপ্নমেঘ” একটি ৯৩ বন্ধুদের লেখা গল্প সংকলন

লেখকের বইয়ের ভুবন

‘৯৩-র বন্ধুদের লেখা গল্প সংকলন। স্বপ্নমেঘ … ভালবাসা দিবসের একটি সেরা বই। একটি আনন্দময় দিনেই প্রকাশিত হলো স্বপ্নমেঘ। নামটিতে জড়িয়ে আছে মানুষের নানান স্বপ্নের ট্রিলজিক্যাল ইশারা। একটি সংকলিত বই। বহুমাত্রিক উপমার বর্হিপ্রকাশ বলা চলে। সম্পাদক মো. শরিফুর রহমান মনের আবেগ মিশিয়েছেন “স্বপ্নমেঘ “বইটিতে। রূপক অর্থে ব্যবহৃত হলেও বইটির নামকরণে মিছে আছে অসংখ্য বন্ধুর ভোট। এবং বন্ধু বিষয়টিও এখানে চলে আসছে একটু ব্যতিক্রমী আবেগের উচ্ছাসে ! আশির দশক, নব্বুই দশক, দুই হাজার… এভাবে বিভিন্ন এসএসসি ব্যাচের প্ল্যাটফর্ম আছে। ১৯৯৩ সালের এসএসসি ব্যাচের একটি সফল সাহিত্য পরিবার থেকে সৃষ্টির অপার মহিমা তুলে এনেছেন সম্পাদক। কেননা নিজেও একজন নাইনটি থ্রিয়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৯৩ ব্যাচের বন্ধুবৃন্দের মতামতের আলোকে বইটির নাম বাছাই করেছেন সম্পাদক। শুভাকাঙ্খিরাও ব্যাচ ৯৩ পরিবারের মতো। বইটির মাধ্যমে ১৯৯৩ এসএসসি সদস্যদের এখন আরও জোড়ালো ভাবে এখন একসুঁতোয় বেঁধে দিলো- গল্প সংকলন ‘স্বপ্নমেঘ’। সারা বাংলাদেশের এসএসসি ৯৩ এর অসংখ্য লেখক আছে। যারা সবদিনই সরব থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যাদের অনেকেই পেশাগত লেখক। কেউ কবি। কেউ ঔপন্যাসিক। কেউ নাট্যকার। সবার লেখার হাতই যথেষ্ঠ ভাল। পুরো দেশের ৯৩ পরিবারের এত শত শত লেখকের ভিড়ে গল্প সংগ্রহ করে একটি সফল সম্পাদনা করা যেন রাতের আকাশে চেয়ে তারার হিসেব করা! বিষয়টা এতটা সহজ ছিল না। বড়ই জটিল প্রক্রিয়া। তবু সবার অবধারিত সাড়ার প্রতিদান মহামূল্যবান ও পড়ার মতো একটি বই স্বপ্নমেঘ। বিশজন তুখোড় সাহিত্যিকের বিশটি গল্পে সাজানো হয়েছে বইটি। একটি গল্প পড়লে পাঠককে নিয়ে যাবে আরেকটি গল্পের উঠোনে! ছোট ছোট গল্পের মিথ পাঠককে পুরো বইটি শেষ অবধি উঠতে দেবে না এ কথা শতভাগ বলা যায়। সারা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের লেখকের ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকের যে উপস্থাপনা এই ভিন্নতাটুকুই পাঠকের জন্য থাকছে আকর্ষণ! স্বপ্নমেঘ বইটির সম্পাদক যে বইটির প্রতি তার মেধা ও শ্রম কতটা বিলীন করেছেন সেটা ঝঁকঝঁকে সংকলনটিই বলে দিচ্ছে। মো. শরিফুর রহমান বইটির সম্পাদনা প্রসঙ্গে আরও বলেন: “ ‘৯৩ ব্যাচের আমার সহপাঠি বন্ধুরা, যারা আমার কাঠে ঠিক একটি পরিবার। এদের মধ্যে অনেকেই লেখালেখির সাথে জড়িত। সবাই খুব ভাল লেখেন। একজন প্রকাশক হিসেবে সব সময়ই আমি ভালোমানের লেখার প্রতি দুর্বল। আমি চেষ্টা করি তাদের সেরা লেখাগুলো পাঠকের হাতে তুলে দিতে। মলাটে আবদ্ধ একটি সুন্দর বই প্রকাশের মাধ্যমে। প্রতিবছরই আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শব্দশিল্প আমার প্রাণের কোন না কোন বন্ধুর বই প্রকাশ করছি। এই ধারাবাহিকতায় এবার একুশে বইমেলায় দুটি আলাদা সংকলন বই আমি সম্পাদনা করি। একটি সারাদেশের ৯৩ বান্ধবীদের একটি কবিতার বই ‘কণ্ঠলতা’ প্রকাশ করি। আর দ্বিতীয়টি এই শুধু ছেলেবন্ধুদের গল্প সংকলন ‘স্বপ্নমেঘ’। এমন একটি সংকলন প্রকাশ করতে পেরে আমি সত্যি গর্বিত। বিমোহিত। আমার লেখক বন্ধুরা আমার পরিবারের মতো। সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। আশারাখি-স্বপ্নমেঘ পাঠকপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হবে। ” একজন প্রকাশকের ভালবাসা বিনিয়োগের সাথে আর্থিক বিনিয়োগও জড়িত। দেশের ৯৩ সকল বন্ধুদের প্রতি অবশ্যই কর্তব্য- সরাসরি বইমেলায় এসে হোক, কুরিয়ারে হোক অথবা অনলাইনের মাধ্যমে হোক- স্বপ্নমেঘ সংগ্রহ করে বন্ধুদের গল্পগুলো পড়া। যার যার গ্রুপে গল্পগুলো সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করা। ভিন্ন ভিন্ন ধাঁচের গল্প সম্পর্কে ৯৩ বন্ধুরা ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশটি গল্পই ছড়িয়ে যাবে সারা বাংলার পাঠক মহলে। ধন্য হবে প্রকাশক। উৎসাহিত হবে লেখক পরিবার।

এমন ভাল একটি সংকলন উপহার দিয়ে পাঠক বরাবর, এই আর্জিটুকু সম্পাদক করতেই পারে। স্বপ্নমেঘ লেখক পরিবারকে শুভকামনা। শুভকামনা সম্পাদক।

মারুফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি

ছবিঃ শরিফুর রহমান। সোহেল রানা।