সুপার ওভারে রোমাঞ্চের জয় জিম্বাবুয়ের, শেষ ম্যাচে হারল পাকিস্তান


এম.এ.টি রিপন প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২০, ৫:২৮ পূর্বাহ্ন / ৩২
সুপার ওভারে রোমাঞ্চের জয় জিম্বাবুয়ের, শেষ ম্যাচে হারল পাকিস্তান

টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছিল পাকিস্তান। শেষ ম্যাচটি ছিল হোয়াইটওয়াশের উপলক্ষ্য। কিন্তু তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে প্রবল বেগে ঘুড়ে দাড়ালো জিম্বাবুয়ে। দাতে দাত চেপে করল দারুণ এক লড়াই। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় ম্যাচ আবার গড়াল সুপার ওভারে। যেখানে রোমাঞ্চের জয় জিম্বাবুয়ের। দারুণ এই জয়ে ধবল ধোলাইয়ের লজ্জা থেকে মুক্তি মিলল টেইলরদের।

রাওয়ালপিন্ডিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২৭৮ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে পাকিস্তান প্রায় হারতে হারতে করে ৯ উইকেটে ২৭৮ রান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। আগে ব্যাট করতে নেমে চার বলে দুই রান করে পাকিস্তান। জবাবে তিন বল খেলে দারুণ জয় পায় জিম্বাবুয়ে। সুপার ওভারে পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান ইফতেখার ও খুশদিলকে আউট করেন জিম্বাবুয়ের মুজারাবানি। পুরো ম্যাচের নায়ক বলতে তিনিই।

২৭৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই ধুঁকেছে। দলীয় ৬ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। বিদায় নেন ইমাম উল হক (৪) ও ফকর জামান (২)। শুরুর হোচট সামাল দেন অধিনায়ক বাবর আজম। এক পাশ আগলে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। তবে তার যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি হায়দার আলী (১৩), মোহাম্মদ রিজওয়ান (১০), ইফতেখার (১৮)। ৮৮ রানে নেই পাচ উইকেট।

এরপর অবশ্য খুশদিল শাহ ও ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে দুটি ভালো জুটি গড়ে ওঠে বাবর আজমের। ৩৩ রান করে ফেরেন খুশদিল। তবে ওয়াহাব রিয়াজের সঙ্গে করে দলকে ২৫১ রানে নিয়ে যান বাবর আজম। দারুণ ফিফটি করে মুজারাবানির শিকার হন ওয়াহাব রিয়াজ (৫২)। শেষের দিকে অনেকটাই শঙ্কা পাকিস্তানের। কারণ বাবর আজমের সঙ্গে তখন টেল এন্ডাররা। বেড়ে চলে রান ও বলের ব্যবধান।

একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল হেরেই যাবে পাকিস্তান। কিন্তু শেষ বলে চার হাকিয়ে ম্যাচ টাই করেন মুহাম্মদ মুসা। ৯ উইকেটে ২৭৮ রান। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যেখানে শেষ হাসি হাসে জিম্বাবুয়েই। পাকিস্তানের হয়ে ব্যাট হাতে  অধিনায়োকোচিত ইনিংস খেলেন বাবর আজম। ১২৫ বলে ১২৫ রান করেন আজম। বল হাতে জিম্বাবুয়ের হয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন মুজারাবানি।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপযয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পাক বোলার মোহাম্মদ হাসানাইনের বোলিং দাপটে ২২ রানেই দলটি হারায় তিন উইকেট। অধিনায়ক চিভাভা রানের খাতা খুলতে পারেনি। চারি ৯, আরভিন করেন ১ রান। শুরুর বিপযয় শক্ত হাতে রোধ করেন টেইলর ও শন উইলিয়ামস। এ্ জুটি দলকে টেনে নিয়ে যান ১০৬ রান অবধি। ৫৬ রান করে হাসনাইনের শিকার টেইলর। এরপর মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজার সঙ্গে উইলিয়ামসের খণ্ড খণ্ড জুটি দলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর পৌছে দেয়। সিকান্দার রাজা অপরাজিত ৪৫, মাধেভেরে ৩৩ রান করেন।

তবে হার না মানা এক সেঞ্চুরি করে ক্রিজে অপরাজিত থেকেছেন শন উইলিয়ামস। ১১৮ রানে নট আউট। ১৩৫ বলের ইনিংসে ১৩টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। ৬ উইকেটে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৮ রান। বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে ঝলক দেখান মোহাম্মদ হাসনাইন। ১০ ওভারে তিন মেডেনে মাত্র ২৬ রানে তুলে নেন ৫টি উইকেট।