ফুটবল ফেরার ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিশোধ


এম.এ.টি রিপন প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৪, ২০২০, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ন / ৩৪
ফুটবল ফেরার ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিশোধ

করোনাকালে দেশে খেলাধুলাই ভালোভাবে শুরু হয়নি, সেখানে ফুটবলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ! সময়টা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নানা সতর্কবাণী দিয়ে যাচ্ছেন। শঙ্কা থাকলেও কাজী সালাউদ্দিনের নতুন কমিটি ঠিক ভীত না হয়ে মাঠে ফুটবল ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। মাঠে ফেরানো হয়েছে দর্শক। মহামারি করোনার মধ্যে মাঠে দর্শক ফেরানো ম্যাচটিকে রাঙিয়েছেন জামাল-জীবনরা। দীর্ঘ ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার ম্যাচে নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়েছেন তারা। ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেছেন জীবন ও সুফিল। দুটি গোলই হয়েছে অসাধারণ।

বিশেষ করে সুফিলের গোলটি ছিল দুর্দান্ত। আগামী মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু ফিফা ফ্রেন্ডলি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে দু’দল।

গত জানুয়ারিতে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বুরুন্ডির বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল। এরপর মার্চে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ের ম্যাচ থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। আগামী ৪ঠা ডিসেম্বরে কাতারের সঙ্গে বাছাই পর্বের স্থগিত হওয়া ম্যাচে অংশ নিবে বাংলাদেশ। এর আগে নেপালের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ দুটিকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ জেমি ডে। যদিও এই প্রীতি ম্যাচের আড়ালে লুকিয়ে ছিল প্রতিশোধের আগুন। নেপালের সঙ্গে শেষ দুই সাক্ষাতে হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০১৮ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ২-০ গোলের সেই হারের ক্ষতটা তো এখনো জ্বলজ্বলে। যে হারে  দেশের মাটিতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। ওই হারের প্রতিশোধ নিতেই মনে হয় কাল মাঠে নেমেছিল জামাল-জীবনরা। শুরুটাও দুর্দান্ত করেছিল স্বাগতিকরা। ম্যাচের ১০ম মিনিটেই স্বাগতিক দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসান স্টাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন। ডান দিক থেকে সাদউদ্দিনের ক্রসে চলন্ত বলে ডান পায়ে গোল করেছেন আবাহনীর স্ট্রাইকার। ম্যাচের ২১ মিনিটে ডানদিকে একাই বল নিয়ে ঢুকে পড়েন জীবন। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেয়া জীবনের শট ইব্রাহিমের মাথা স্পর্শ করার আগেই তা কর্নারে রক্ষা করেন নেপালি গোলরক্ষক কিরন কুমার লিম্বু। ২৭ মিনিটে মানিক মোল্লার দূরপাল্লার শট নেপালের গোলরক্ষক কিরন লিম্বু ফিস্ট করে প্রতিহত না করলে লিড বাড়তে পারতো বাংলাদেশের।

নেপালের বিপক্ষে এদিন তিন ফুটবলারকে অভিষেক করিয়েছেন বৃটিশ কোচ জেমি ডে। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকু গতকালই প্রথম জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন। উত্তর বারিধারার স্ট্রাইকার সুমন রেজা ও চট্টগ্রাম আবাহনীর মানিক মোল্লার ওপর যে আশা করে অভিষেক করিয়েছিলেন জেমি, তা সেভাবে পূরণ করতে পারেননি এই দুই তরুণ ফুটবলার। দ্বিতীয়ার্ধে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ। ফিটনেস ঘাটতিও চোখে পড়েছে। চারটি পরিবর্তন এনেও সে ঘাটতি পূরণ করতে পারেননি বাংলাদেশ কোচ। উল্টো মাঝে মাঝে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল নেপালের আক্রমণ ভাগ। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে তপু বর্মণের বক্সের ফ্রিকিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের মিনিটে অনন্ত তামাংয়ের লংবল কর্নারে রক্ষা করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকু। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে বদলি সুফিল আবারো স্বাগতিক দর্শকদের উল্লাসে মাতান। মাঝমাঠ থেকে সোহেল রানার থ্রু ধরে একাই বল নিয়ে এগিয়ে যান সুফিল। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ প্লেসি শটে গোল করেন বসুন্ধরা কিংসের এই ফরোয়ার্ড।

বাংলাদেশ একাদশ
আনিসুর রহমান জিকু, তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, জামাল ভূইয়া (আতিকুর রহমান ফাহাদ), মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাদউদ্দিন, নাবীব নেওয়াজ জীবন (রবিউল হাসান), মানিক মোল্লা (সোহেল রানা) ও সুমন রেজা (মাহবুবুর রহমান সুফিল)।
নেপাল একাদশ: কিরন কুমার লিম্বু (অধিনায়ক), অজিত ভাণ্ডারি, অনন্ত তামাঙ, বিক্রম লামা, তেজ তামাঙ, অঞ্জন বিশট, সুজল শ্রেষ্ঠ, সুমন আরিয়াল, নয়াযুগ শ্রেষ্ঠ, রবিশংকর পাসওয়ান ও বিকাশ খাওয়াস।