ভাইরাল হওয়া কোরবানির সেরা দশ গরু


এম.এ.টি রিপন প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২২, ৩:৫৬ অপরাহ্ন /
ভাইরাল হওয়া কোরবানির সেরা দশ গরু

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আযহা। প্রতিবছরের মতো এবারো বড় আকারের গরুগুলো সবার মনোযোগ কাড়ছে। এসব গরুর আদর করে বিভিন্ন নাম রেখেছেন মালিকরা। এছাড়া উৎসব এলেই বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। কোরবানির উৎসবের বেলায়ও এর ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন গরু ক্রয়ে অফারের হিরিক দেখা যায়। কোনো কোনো খামারি গরুর সাথে ক্রেতাদের মোটরসাইকেল এবং ছাগল উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেসব গরু ভাইরাল হয়েছে এমন দশটি গরু নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। 

১. বিগ বস: মালিক আফিল উদ্দিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া তালতলা গ্রামে। এবারের কোরবানি ঈদ সামনে রেখে আফিলের বিগ বস এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। পাঁচ বছর ধরে আদর-যত্নে ষাঁড়টিকে লালন করেছেন মালিক।

আফিল উদ্দিন জানান, বিগ বসের ওজন এখন প্রায় ৩৭ মণ। উচ্চতা ৬ ফুট আর লম্বায় ১০ ফুট। ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে পরিমাপ করে ষাঁড়টির ওজন নিশ্চিত হয়েছেন তিনি। বিগ বসের দাম কত জিজ্ঞেস করতেই আফিল উদ্দিন বলেন, ‘বিগ বসের ওজন ১ হাজার ৫০০ কেজির বেশি। তাই দাম চাচ্ছি ৩৫ লাখ টাকা। এই দামে কিনলে বিগ বসের সঙ্গে টিভিএস ব্র্যান্ডের একটি মোটরসাইকেল উপহার দেবেন ক্রেতাকে।

কালো রঙের কক্স কিংয়ের দাম হাঁকা হচ্ছে ২০ লাখ টাকা। উচ্চতায় সাড়ে ৫ ফুটের বেশি এই কিংকে সামাল দিতে প্রয়োজন পড়ে চার-পাঁচজন মানুষ। এটি মিলবে কক্সবাজার কলেজ গেট এলাকায়। এবারই প্রথম কোরবানির হাঁটে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ দামের এই ষাঁড়টি বিক্রির জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে খামারি শফিকুল ইসলাম। জানান, এক ক্রেতা এসে ১০ লাখের বেশি দাম বলে গেছেন। এই দামে কক্স কিংকে বিক্রি করিনি।

৩. ডয়মন্ড: লালচে রঙের প্রায় আট ফুট লম্বা ও ২০ মণ বেশি ওজনের ডায়মন্ডের দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। এটিও কক্সবাজারের কলেজ গেট এলাকার খামারি শফিকুল ইসলামের। তিনি বলেন, ঘরে এসে অনেকেই দরদাম করছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় বিক্রি করছি না। তাই কোরবানি হাটে ষাঁড় দুটি বিক্রির জন্য নিয়ে যাব। প্রতিদিনই দুই হাজার টাকার খাবার লাগে তাদের।

৪. শাহ সুলতান: ওজনে বেশ ভাড়ী হওয়ায় ৩২ মাসের বয়সী ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় সুলতানকে হাটে তুলতে পারছেননা রংপুরের পীরগাছার খামারী রেজাউল করীম। নাদুস চেহারায় গরুটি দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন ছুটে আসেন। দামাদামি করছেন, সেলফিও তুলছেন গরুর সাথে। গরুটির দাম ধরেছেন দশ লাখ টাকা। একই মালিকের আরো তিনটি গরু রয়েছে একটির নাম জয়। দাম ৯ লাখ টাকা। আর শাহরুখ খান ও অমিতাভ বচ্চনের দাম ধরা হয়েছে ৮ লাখ টাকা করে। যে এই গরু চারটি যে নেবেন তাকে ডাবল ডিস্কের একটি পালসার মোটরসাইকেল উপহার দেবেন খামারী।

৫. সম্রাট: পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে এবারের কোরবানির ঈদের পশু হাট কাঁপাবে ফরিদপুর জেলার সবচেয়ে বড় আকারের (ষাড়) সম্রাট। সাড়ে তিন বছরের এই গরুটি লম্বায় সিনা থেকে পেছন পর্যন্ত ১১ ফুট এবং এর উচ্চতা ফ্লোর থেকে পিঠ পর্যন্ত প্রায় ৬ ফুট। ৩৮ মন ওজনের এই গরু কেনার মতো যুৎসই ক্রেতা মিলছে না। এজন্য এবার সম্রাটকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সবমিলিয়ে এখন সম্রাটের শরীরে গোস্ত রয়েছে ১২০০ কেজি। প্রাকৃতিক ঘাসের সাথে বিশেষ খাবার হিসেবে তাকে দেয়া হয় আপেল, কমলা ও আঙুর। এটির দাম হাঁকানো হয়েছে দশ লাখ টাকা

৬. ডন: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের পশ্চিম কাজিপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের খামারে ৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট উচ্চতার ডন নামে একটি বড় গরু রয়েছে। এর দাম হাঁকানো হয়েছে সাত লাখ টাকা। একই মালিকের আরো বাদশা এবং টাইগার নামে ফ্রিজিয়ান জাতের আরো দুটি গরু রয়েছে। এরমধ্যে বাদশা ৬ লাখ এবং টাইগারের দাম ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। বিক্রেতার দাবি ডন- ২৫ মণ, বাদশা- ২৩ মন, টাইগারের ওজন ২০ মণ হবে। এই ৩টি গরুর সঙ্গে ৩টি বড় খাসি ছাগল উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

গরুর মালিক জানান, ডন- বাদশা- টাইগার প্রতিটি গরুর দৈনিক সাড়ে চার কেজি গমের ভূসি, তিন কেজি ধানের গুড়া, দুই কেজি কলাইয়ের ভূসি, তিন কেজি খুদ ও ছয় আটি খড় খাওয়াতেন। এতে মাসে তার ১৮-২০ হাজার টাকার মতো খরচ হতো।