১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ, নয়াপল্টনের বিকল্প খুঁজছে পুলিশ


এম.এ.টি রিপন প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৪, ২০২২, ২:২১ অপরাহ্ন /
১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ, নয়াপল্টনের বিকল্প খুঁজছে পুলিশ

আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। এই সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করেছে দলটি। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা তাদের অনুমতি দিব। তবে কোথায় দেব সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ নয়াপল্টনে ৩০ হাজার মানুষের বেশি জায়গা হবে না। যেহেতু তারা ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটাতে চায়, তাই বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে। নয়াপল্টনে ১০ লাখ মানুষের জায়গা হবে কীভাবে? ভেবে-চিন্তে যেখানে অনুমতি দেওয়া হবে, সেখানেই করতে হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ কিংবা পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়ার প্রাথমিক চিন্তা চলছে। এছাড়া আরো অন্যান্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমাবেশে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এবং জনগণের দুর্ভোগ যাতে না হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তার জন্য যা যা দরকার তাই করা হবে। এদিকে আগামী ১০ ডিসেম্বরের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দিন দিন রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। কী ঘটবে ১০ ডিসেম্বর তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ-আলোচনা। দিনটি ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পালটাপালটি বক্তব্যে, বিবৃতিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে গণসমাবেশ করতে অনড় অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলটি অন্য কোনো বিকল্প ভেন্যুতে সমাবেশ করতে রাজি নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলার যাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেব না। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপি আগামী ১০ ডিসেম্বর ঘিরে যে হুংকার দিচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের শক্তিতে চলে। আমরা সে জন্যই ইলেকশনকে বিশ্বাস করি। জনগণের ম্যান্ডেটকে বিশ্বাস করি। বুধবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী থানার নতুন ভবন উদ্বোধনকালে তিনি আরো বলেন, যারা ষড়যন্ত্র বিশ্বাস করে, বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতায় আসে তারা সব সময়ই এক ষড়যন্ত্রের পর আরেক ষড়যন্ত্র করে আসছে। বিএনপি ঢাকায় গণজমায়েত হয়ে এক দফা এক দাবি দিয়ে ক্ষমতা দখল করবে, ঢাকা দখল করবে। এমনটিই তারা বলে আসছে। এই ১০ তারিখের গণজমায়েতের নামে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। তিনি আরো বলেন, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের কথা মানুষ ভুলে যায়নি। একটানা ৪২ দিন তখন অগ্নিসন্ত্রাস প্রত্যক্ষ করেছে এ দেশের মানুষ।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, খালি কলসি বেশি বাজে—১০ ডিসেম্বর নিয়ে বিএনপি বাগাড়ম্বর করছে। ১০ ডিসেম্বর কী হবে সেটা সরকার জানে। তারা ঐদিন সরকার পতনের একদফা আন্দোলন করবে বলে যা বলছে এসব দফা নিয়ে তারা অনেকবার বলেছে। এগুলো নিয়ে সরকার ভাবছে না। গতকাল সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী উলটো প্রশ্ন করে বলেন, সমাবেশ কেন একটি প্রধান রাস্তা বন্ধ করেই করতে হবে? তাদের এত বড় সমাবেশ করার জন্য পূর্বাচলই ঠিক আছে। তিনি বলেন, তারা ১০ ডিসেম্বর আসলে দেশে একটি অরাজকতা তৈরি করতে চায় আগের মতো। হেফাজত যেমন একবার দেশে অশান্তি করার চেষ্টা করেছিল, বিএনপি এবার সেটাই চায় আবার। কিন্তু সরকার এটা হতে দেবে না। ঐ দিন ঢাকার প্রত্যেকটি ওয়ার্ড ও অলিগলিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকবেন। জঙ্গি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির এখনকার কাজের মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের এসব তৎপরতা সফল হতে দেবে না সরকার।

এদিকে মঙ্গলবার নয়াপল্টনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর নাকি সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশটা কি কারো বাপের রাজত্ব নাকি। বাধা পরোয়া করি না, ১০ তারিখে এখানেই (নয়াপল্টনে) সমাবেশ হবে। আর আসল ঘোষণা আসবে ১০ তারিখে। সেদিন থেকে শুরু হবে এক দফার আন্দোলন।

এ ব্যাপারে পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন হলেন বলেন, আগুন সন্ত্রাসের চেষ্টা করলে তা রুখে দিতে প্রস্তুত আছে পুলিশ। গতকাল রাজশাহী পুলিশ লাইনসে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি আরো বলেন, বিএনপি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের মধ্যে কাউকে অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। দেশে আবারও আগুন সন্ত্রাসের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড দেখা দিলে আগের মতোই কঠোর জবাব দেওয়া হবে